শনিবার, ১৫ অগাস্ট ২০২৬, ০৫:২৩ পূর্বাহ্ন
কক্সবাজার-টেকনাফ মেরিন ড্রাইভ সড়ক জোয়ারের তীব্র ঢেউতে ঝুঁকির মুখে পড়েছে-ছবি: কক্সবাজার ভয়েস ডট কম। নেছার আহমদ:
ঘুর্ণিঝড় ইয়াস ও পুর্নিমার জোয়ারের প্রবল ধাক্কায় ভাঙ্গনের মুখে পড়েছে কক্সবাজার-টেকনাফ মেরিনড্রাইভ সড়ক। হিমছড়ি, সোনার পাড়া, ইনানী, পাটুয়ারটেক পয়েন্টে জিও ব্যগ ও পাথরের ব্লক ধ্বসে গেছে। সড়কের সমুদ্র সাইডে ভাঙ্গনের ফলে ঝুকিতে পড়েছে বিশে^র দ্বীর্ঘতম মেরিনড্রাইভ সড়কটি। এছাড়াও সমুদ্র সৈকতের বালিয়াড়ী ভেঙ্গে ঝাউগাছেরও ব্যপক ক্ষতি হয়েছে। অনেক জায়গায় ঝাউগাছ উপড়ে গেছে। ঘুর্ণিঝড় ইয়াস ও পুর্নিমার জোয়ারের প্রভাবে পাঁচ ফুট উচ্চতায় বৃদ্ধি পাওয়া জোয়ারের পানির তোড়ে এ অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে।
প্রাপ্ত তথ্যমতে, কক্সবাজার থেকে টেকনাফ পর্যন্ত সমুদ্র পাড় দিয়ে চলে যাওয়া দৃষ্টিনন্দিত বিশে^র দ্বীর্ঘতম মেরিনড্রাইভ সড়কটি নির্মাণ করেছে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর প্রকৌশল বিভাগ। সাগরের ঢেউয়ের আঘাতে মুল সড়কে যাতে আঘাত না লাগে সে জন্য সেনাবাহিনী আগে থেকেই সড়কের সমুদ্র সাইডে জিও ব্যগ ও পাথরের ব্লক দিয়ে প্রতিরক্ষার কাজ করে রেখেছে। কিন্তু ঘুর্ণিঝড় ইয়াস ও পুর্নিমার জোয়ারের প্রবল ধাক্কায় ভাঙ্গনের মুখে পড়েছে কক্সবাজার-টেকনাফ মেরিনড্রাইভ সড়কটি।
মেরিনড্রাইভ সড়কের স্থানিয় বাসিন্দা ও ব্যবসায়ীরা জানান, গত কয়েকদিনের প্রবল জোয়ারের তোড়ে হিমছড়ি, সোনার পাড়া, ইনানী, পাটুয়ারটেক পয়েন্টে জিও ব্যগ ও পাথরের ব্লক ধ্বসে গেছে। ভাঙ্গনের ফলে ঝুকিতে পড়েছে সড়কটি। এ অবস্থায় বর্ষা মৌসুম জোয়ারের ঢেউয়ের আঘাতে মেরিনড্রাইভ সড়কে আরো ক্ষতি হতে পারে বলে আশংকা করা হচ্ছে। এতে স্থায়ীভাবে টেকসই পরিকল্পনা নেয়ার দাবী সকলের।
উখিয়া উপজেলা চেয়ারম্যান হামিদুল হক চৌধুরী জানান, সমুদ্রের পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় জোয়ারের ধাক্কায় ভাঙ্গনের কবলে পড়েছে মেরিনড্রাইভ সড়ক। সেনাবাহিনীর তত্তাবধানে জিওব্যাগ দিয়ে সড়কটি সাময়িকভাবে রক্ষার চেষ্টা করা হচ্ছে। সেনাবাহিনীর তত্তাবধানেই সড়কের সমুদ্র সাইটে স্খায়ীভাবে রক্ষায় পদক্ষেপ নেয়ার দাবী জানান এ জনপ্রতিনিধি।
কক্সবাজার জেলা প্রশাসক ডক্টর মোঃ মামুনুর রশীদ জানান, ঘুর্ণিঝড় ইয়াস ও পুর্নিমার জোয়ারের প্রচন্ড ঢেউয়ের তোড়ে কক্সবাজার-টেকনাফ মেরিনড্রাইভ সড়কের কয়েকটি স্থানে ভাঙ্গন দেখা দিয়েছে। সমুদ্র উপকূলের ঝাউবনেরও ক্ষতি হয়েছে। এ বিষয়ে বনবিভাগ ও পানি উন্নয়ন বোর্ড এর সাথে সমন্নয়ে পরিকল্পনা করে স্থায়ীভাবে প্রতিরক্ষার কাজ বাস্তবায়ন করা হবে বলে জানান জেলা প্রশাসক।
সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে ভাংগন রোধে সাময়িকভাবে কাজ শুরু করেছে। পুর্নিমা জোয়ারের প্রভাবটা কমে গেলে ভাংগন প্রতিরোধে দ্রুত সময়ে কাজ করবে বল জানা গেছে।
ভয়েস/আআ